সর্বশেষ
Home / একদিন প্রতিদিন / শখের পাখি

শখের পাখি

মানুষ খুবই শৌখিন। তার চাহিদাগুলো পূরণ হওয়ার পর সে তার জীবন আর তার পরিবেশ সাজাতে চায় ভিন্ন কিছু সুন্দর দিয়ে। যেটা তার ও তার আশপাশের মানুষের নজর কাড়ে।

একেক মানুষের শখ একেক রকম। যেমন, অনেকে বাসায় মুরগি, কুকুর, বিড়াল, মাছ, পাখি পালতে ভালোবাসেন, আবার অনেকে বাগান, শো-পিস, কলম, বই, ডায়েরি, দেয়াল ছবি, গাড়ি বা ডাকটিকিট সংগ্রহ করে। এসব শখের জিনিস একসময় তার সবচেয়ে প্রিয় জিনিসে পরিণত হয়। শুধু প্রিয় হলেই হবে না, নিতে হবে এর পরিপূর্ণ যত্ন। সখ করে যারা বাড়িতে পাখি পোষেন, তাদের অনেকেই সঠিকভাবে জানেন না পাখির যত্ন এবং খাদ্য-খোরাকের খুঁটিনাটি। তাহলে জেনে নেয়া যাক কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

পাখির যত্ন

* পাখির খাঁচাটি বাঁশের তৈরি হলে বেশি ভালো হয়, কারণ স্টিলের খাঁচা কোনো কোনো পাখির ত্বকের ক্ষতি করে।

* পাখিকে সব সময় পাখির জন্য নির্দিষ্ট করা খাদ্যই দিতে হবে। বাজারে পাখির জন্য প্যাকেটজাত খাদ্য কিনতে পাওয়া যায়। যেমন- খাবার হিসেবে শস্য দানা, গম, ভুট্টা, ধান, তিল, তিশি, কাউন, সূর্যমুখী ফুলের বিচি দেয়া হয়ে থাকে।

* পাখিকে সব সময় আলো-বাতাসপূর্ণ স্থানে রাখতে হয়, বৃষ্টির দিনে যাতে পাখির শরীরে পানি না লাগতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

* পাখির খাঁচায় ছোট পেট ফুটো মাটির কলস ঝুলিয়ে দিতে হয়। মাঝে দিতে হয় খড়কুটো। এই কলসে পাখি ডিম পাড়ে আর এই খানেই এদের বাচ্চার জন্ম হয়।

* পাখির খাঁচা নিয়মিত পরিষ্কার রাখাটা জরুরি। না হলে পাখির বিভিন্ন রোগ-বালাই হতে পারে।

* পোষা পাখিকে সব সময় মানুষের সংস্পর্শে রাখা উচিত।

* তিন মাস পরপর কৃমিমুক্তকরণ ওষুধ খাওয়াতে হবে।

* সুষম খাদ্য খাওয়াতে হবে।

* ছয় মাস পরপর ভ্যাকসিন দিতে হবে।

* প্রতিদিন পা পরিষ্কার করিয়ে দেয়া উচিত।

ঠাণ্ডা থেকে পাখিকে সুরক্ষিত রাখতে

১। পাখির খাঁচা এমন জায়গায় রাখতে হবে যাতে সরাসরি ঠাণ্ডা বাতাস না লাগে। প্রচণ্ড ঠাণ্ডা অথবা শৈত্য প্রবাহ চলাকালীন ঘরের জানালা-দরজা ঠিকভাবে বন্ধ রাখতে হবে আর যারা বারান্দায় পাখি রাখেন তাদের অবশ্যই বারান্দা পলিথিন বা তাবুর কাপড় বা ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।

২। প্রতিদিন পাখির খাঁচা ২/৩ ঘণ্টা এমনভাবে রোদে রাখুন যাতে খাঁচার এক পাশে রোদ লাগে এবং অন্য পাশে ছায়া থাকে।

৩। রাতের বেলা পাখির খাঁচা অবশ্যই মোটা কাপড় বা হালকা কম্বল দিয়ে ঢেকে দিতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে যাতে বাতাস চলাচলের জন্য কিছু জায়গা থাকে।

৪। পাখির শীতকালীন সম্পূরক খাবার- মধু, আদা, তুলসি পাতা, পুদিনা পাতা এবং অপরিশোধিত এপেল সিডার ভিনেগার (টহভরষঃবৎবফ অঈঠ) পাখির ঠাণ্ডা প্রতিরোধ করে এবং পাখির ঠাণ্ডার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। বিশুদ্ধ মধু, অপরিশোধিত এপেল সিডার ভিনেগার (টহভরষঃবৎবফ অঈঠ), তুলসি এবং টাটকা শাক সবজি ও ফলমূল পাখির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

এপেল সিডার ভিনেগার (ইৎধমম টহভরষঃবৎবফ অঈঠ) মিশ্রিত পানি প্রতি ২ সপ্তাহে টানা ৩ দিন ( ছোট আকারের পাখির জন্য ৫ মিলি ১ লিটার পানিতে, বড় আকারের পাখির জন্য ১০ মিলি ১ লিটার পানিতে) খেতে দিতে পারেন। আর পাখির শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখার জন্য সজনে পাতা নিয়মিত খেতে দিন। সজনে পাতায় ভিটামিন , খনিজ পদার্থ , প্রোটিন, অ্যান্টি অক্সিডেন্টস এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যৌগিক উপাদান বিদ্যমান যা আপনার পাখির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে এবং সহজেই ঠাণ্ডায় আক্রান্ত হবে না।

৫। শীতকালে পাখির সীডমিক্সে তেল জাতীয় বীজ যেমন তিল/গুজি তিল, সূর্যমুখীর বীজ, ক্যানারি এর পরিমাণ বাড়িয়ে দিন।

৬। পাখির খাঁচা, খাবারের পাত্র এবং পানির পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার করুন এবং প্রতিদিন পরিষ্কার পাত্রে তাদের বিশুদ্ধ পানি ও খাবার খেতে দিন। এতে করে আপনার পাখি ব্যাকটেরিয়া অথবা ফাঙ্গাস-এর আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত, সুস্থ ও সবল থাকবে যার ফলে হঠাৎ করে ঠাণ্ডা লাগার ভয় কমে যাবে।

Test

আরো দেখুন

তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী অথচ বাড়ি কিনেছেন আড়াই কোটি টাকার

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী তিনি। মাসিক মূল বেতন মাত্র ১০ হাজার …

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com