সর্বশেষ
Home / জাতীয় / রাজধানী / যে কারণে প্রতিবছর ঢাকা ঢুকছে ১০ থেকে ১২ লাখ মানুষ

যে কারণে প্রতিবছর ঢাকা ঢুকছে ১০ থেকে ১২ লাখ মানুষ

ঢাকা আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী বসবাসের অযোগ্য শহর হিসাবে বিশ্বে চতুর্থ, নদীদূষণের দিকে থেকে প্রথম, বায়ুদূষণের দিক থেকে এশিয়ায় দ্বিতীয় এবং সবচেয়ে মানসিক চাপের শহর হিসাবে বিশ্বে সপ্তম। তারপরও ভিটাবাড়ি ছেড়ে মানুষ ঢাকা শহরের দিকে আসছে। ঢাকামুখী জনস্রোত একটুও কমেনি।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী গ্রামে আয়ের তুলনায় ব্যয় অনেক বেশি। মূলত এই কারণেই ঢাকামুখী জনস্রোত থামানো যাচ্ছে না বলে মত বিশেষজ্ঞদের। আর গবেষণা বলছে, ঢাকার ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর জন্য নেওয়া উদ্যোগের ফলাফল হতাশাব্যঞ্জক।

বসবাসের যতই অযোগ্য হোক ঢাকায় আসা মানুষ ভালোভাবেই জানেন উন্নয়ন বৈষম্যের কারণে ঢাকায় এমন কিছু সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা গ্রামে, জেলা শহরে এমনকি বিভাগীয় শহরেও পাওয়া যায় না। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্যও বলছে, গ্রামে আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি আর শহরে ব্যয়ের তুলনায় আয় বেশি। তাহলে কেন মানুষ ঢাকায় আসবে না।

এ ছাড়া বৃহত্তর রংপুরের মানুষ কেন ঢাকায় বেশি আসে তারও জবাব পাওয়া যায় পরিসংখ্যান ব্যুরোর রিপোর্টে। এর তথ্য অনুযায়ী, রংপুর বিভাগে দরিদ্রতার হার সবচেয়ে বেশি, যেখানে ৪৭ দশমিক ২ শতাংশ মানুষই দরিদ্র।

বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহর হিসেবে ঢাকা এখন সারা দুনিয়ার কাছে বিস্ময় যে কী করে এই শহরে প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ বাস করে। জনসংখ্যার চাপ কমাতে ঢাকায় সব সুযোগ সৃষ্টি না করে বিকেন্দ্রীকরণের ওপর জোর দেওয়া হয় সবচেয়ে বেশি। কিন্তু সেটাও কি সম্ভব হচ্ছে। এ ব্যাপারে উন্নয়ন গবেষণা সংস্থা একটি গবেষণা চালায়। যেখানে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের মোট ১২টি ইপিজেড (রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল) নিয়ে কাজ করা হয়।

বিআইডিএসের গবেষক ইউনুছ বলেন, “আমরা ইপিজেডের ওপর গবেষণা করেছি, নয়টি ইপিজেড, সবকিছুতে। এটায় একটা জিনিস প্রকট হয়ে এসেছে এই যে, নীতির বিকেন্দ্রীকরণে যদি উৎসাহিত না করেন, তাহলে যে তা হয় না। সেটা আপনি দেখবেন চট্টগ্রাম ইপিজেড এবং ঢাকা ইপিজেডে উদ্যোক্তরা প্লটের জন্য যারপরনাই প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে; ‘একটা প্লট খালি হচ্ছে এটা আমি নেব’। অথচ আদমজীতে প্লট খালি আছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডে কুমিল্লায় প্লট খালি আছে। সেখানে উদ্যোক্তারা যেতে চায় না।”

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সিনিয়র গবেষক মোহাম্মদ ইউনুছ বলেন, ‘আট ভাগের এক ভাগ, ১৩ শতাংশ লোকজন শুধু আমরা সিটিতেই বসবাস করছি। যেখানেই বলা হয়, জিডিপির ওয়ান-থার্ড, প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ ঢাকাতেই জেনারেটেড (সৃষ্টি) হয়। এটা একটা সুস্থ লক্ষণ না। আমাদের বিকেন্দ্রীকরণের দিকে যেতে হবে।’

প্রসঙ্গত, মেগাসিটিগুলোর মধ্যে ঢাকায় এখন সবচেয়ে দ্রুত জনসংখ্যা বাড়ছে। পরিস্থিতি এমন যে ঢাকায় ভুটানের সমান জনসংখ্যা হতে এক বছরও লাগে না। আবার জনবহুল সিঙ্গাপুর শহরের সমান জনসংখ্যা হতে সাত-আট বছরই যথেষ্ট। ঢাকা ও তার আশপাশের জনসংখ্যা, যা এখন প্রায় এক কোটি ৭০ লাখ, তা দুটি কোটি দু-তিন বছরেই ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

 

Test

আরো দেখুন

বিমানের ৭ কর্মকর্তাসহ ১১ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী ফ্লাইটে ত্রুটির ঘটনার মামলায় বাংলাদেশ বিমানের সাত কর্মকর্তাসহ ১১ জনকে অব্যাহতি …

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com