সর্বশেষ
Home / খেলা / অন্যান্য / যাত্রাবাড়ীতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রী, শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ

যাত্রাবাড়ীতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রী, শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ

যাত্রাবাড়ীর ‘অগ্রদূত বিদ্যানিকেতন হাইস্কুল’ এর প্রধান শিক্ষক এনামুল কবির রিপনের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের ছাত্রী, শিক্ষিকা ও অভিভাবকদেরকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। একাধিক ছাত্রী, শিক্ষিকা ও অভিভাবক এ অভিযোগ জানিয়েছে। এ ঘটনায়, স্কুলের সম্মান রক্ষার্থে ও নিজেদের সম্মান বাঁচাতে ম্যানেজিং কমিটির কাছে প্রধান শিক্ষকের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন স্কুলটির ২২ শিক্ষকের মধ্যে ১৯ জন। প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতি, ছাত্রী-শিক্ষিকা-অভিভাববকদের যৌন হয়রানি ও নিজেদের নিরাপত্তার দাবিতে যাত্রাবাড়ী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন স্কুলটির শিক্ষকরা। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্যকেও এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

তবে যৌন নির্যাতনসহ দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও এগুলোকে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন প্রধান শিক্ষক এনামুল কবির রিপন।

মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকেই যাত্রাবাড়ীর ছনটেক এলাকায় ‘অগ্রদূত বিদ্যানিকেতন হাই স্কুল’টির সামনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যৌন নির্যাতনের প্রতিবাদে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে মানববন্ধন করেছেন ছাত্র-ছাত্রীরা। যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা সাধারণ ডায়েরির তদন্ত করতে আসেন এসআই আ. আওয়াল। তার কাছে অন্তত দশজন ছাত্রী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও হয়রানিচেষ্টার অভিযোগ করতে দেখা গেছে। একই ধরনের অভিযোগ জানিয়েছেন শিক্ষিকারাও।

স্কুলের শিক্ষকরা বাংলা ট্রিবিউনের কাছে দাবি করেন, ‘প্রধান শিক্ষক ২০০৫ সালে ভারপ্রা্প্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পান। এরপর ২০০৯ সালে তাকে প্রধান শিক্ষক করা হয়। তার কারণে আমরা সম্মান নিয়ে থাকতে পারছি না। তার কাছে আমাদের শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্রী-অভিভাবক কেউই নিরাপদ নয়। সুযোগ পেলেই তিনি শিক্ষিকা, ছাত্রী, অভিভাবকদের যৌন নির্যাতন করেন। তার কারণে অনেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক স্কুল ছেড়ে চলে গেছেন।’

প্রধান শিক্ষক দ্বারা একাধিকবার যৌন নির্যাতনের শিকার এক ছাত্রী বলেন, ‘আমি স্যারের স্ত্রীর কাছে তাদের বাসায় গিয়ে পড়তাম। ম্যাম যখন সামনে থাকতেন না তখনই স্যার আমাকে বিভিন্নভাবে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করতো। আমি বাধা দিলেও তিনি শোনেননি। শুরুতে ভয়ে কাউকে বলিনি। পরে আম্মুকে জানাই। আম্মু স্থানীয় এক নেতার মাধ্যমে স্যারকে বাসায় ডেকে আনান। কিন্তু, তিনি সব কিছু অস্বীকার করায় উল্টো ওই নেতা আমার আম্মুকে বলে এটা নিয়ে আর বাড়াবাড়ি কইরেন না, মেয়ের সমস্যা হইবো। তাই ভয়ে আমরা আর তেমন কিছু করিনি।’

এদিকে প্রধান শিক্ষক এনামুল কবির রিপন দ্বারা যৌন নির্যাতনে শিকার প্রতিষ্ঠানটির একাধিক শিক্ষিকা। তাদের মধ্যে অন্তত পাঁচজন শিক্ষিকা জানান, অন্য শিক্ষকরা যখন ক্লাসে ব্যস্ত থাকে তখনই প্রধান শিক্ষক শিক্ষিকাদের মধ্যে কাউকে একা দেখলে তার কক্ষে ডেকে পাঠান। গায়ে হাত দেন। কুরুচিপূর্ণ ইঙ্গিত করেন―যা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকর্মী হিসেবে কখনই কাম্য নয়। চাকরি হারানো ভয়ে আমরা এতদিন কিছু বলিনি।

একই অভিযোগ করেছেন, একাধিক অভিভাবক। প্রধান শিক্ষকের এ ধরনের আচরণের কারণে তাদের অনেকে সন্তানকে এ স্কুল থেকে ছাড়িয়ে অন্য স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন। আবার অনেকে সন্তানদের স্কুল থেকে না সরালেও প্রধান শিক্ষকের এমন আচরণে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

‘অগ্রদূত বিদ্যানিকেতন হাই স্কুল’ এর ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি মনজুর মোরশেদ জানান, স্কুলে আর্থিক অনিয়ম ও যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠায় ২০১০ সালেও বর্তমান প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছিল। তবে স্থানীয় এমপির হস্তক্ষেপে তখন বিষয়টা বেশিদূর এগোয়নি।

এদিকে স্কুলের শিক্ষকদের দায়ের করা সাধারণ ডায়েরির তদন্তে মঙ্গলবার স্কুলে আসেন যাত্রাবাড়ী থানার এস আই আ. আওয়াল। তিনি বলেন, আমি অভিযোগগুলো শুনেছি। ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক, প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ শুনেছি। আমাদের তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। তদন্ত শেষ বিস্তারিত বলা যাবে।

এদিকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আনীত সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক এনামুল কবির রিপন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখানে একটা বড় ষড়যন্ত্র হচ্ছে আমার বিরুদ্ধে। প্রথমে ম্যানেজিং কমিটি গঠন ও শিক্ষক নিয়োগের জেরে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’

শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে কী হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্কুলে দিবা ও প্রভাতী শাখায় দু’জন ইনচার্জ আছেন। আমাদের স্কুল এমপিওভুক্ত নয়। এমপিওভুক্তির স্বার্থে ওয়ারিউর রহমান নামে একজনকে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এতে ইনচার্জসহ অন্য শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ হন। এছাড়া ম্যানেজিং কমিটিতে যারা আসতে পারেননি তারাও আমার প্রতি ক্ষুব্ধ হন। এই দুই পক্ষ মিলে ষড়যন্ত্র করে আমার বিরুদ্ধে নানা কথা ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে।’

Test

আরো দেখুন

বিমানের ৭ কর্মকর্তাসহ ১১ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী ফ্লাইটে ত্রুটির ঘটনার মামলায় বাংলাদেশ বিমানের সাত কর্মকর্তাসহ ১১ জনকে অব্যাহতি …

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com