সর্বশেষ
Home / জাতীয় / ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান) উপজেলায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রতিনিয়ত হামলা-সহিংসতার খবরে উদ্বিগ্ন অনেক ভোটার।

ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান) উপজেলায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রতিনিয়ত হামলা-সহিংসতার খবরে উদ্বিগ্ন অনেক ভোটার।

 

ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান) উপজেলায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রতিনিয়ত হামলা-সহিংসতার খবরে উদ্বিগ্ন অনেক ভোটার।

নির্বাচনের পরিবেশ এখনো নেই’, ‘শংকায় আছি, ভোট দিতে পারবো কিনা’, ‘আগ্রহ হারিয়ে ফেলছি’, ‘প্রার্থীই যদি আক্রান্ত হয়, তাহলে আমাদের নিরাপত্তা কোথায়?’ বাংলাদেশে সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরুর পর থেকেই ভোলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এই সহিংসতা নির্বাচনী পরিবেশের ওপর কি প্রভাব ফেলছে, ভোটাররা কতটা উদ্বেগ বোধ করছেন – এসব প্রশ্ন নিয়ে কয়েকজনের সাথে কথা বলে শোনা গেল এরকমই কিছু উত্তর।

৩০শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের প্রচারাভিযান শুরু হতে না হতেই – ভোলার লালমোহন,বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান,উপজেলা সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে বিএনপির প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহীমের গাড়িবহরে হামলা, ভাংচুর-সংঘর্ষ ইত্যাদি ঘটনা ঘটছে। বিরোধী দলের বেশ কয়েক জন রাজনৈতিক নেতাও এসব হামলায় আক্রান্ত হয়েছেন। উৎসবমুখর একটা নির্বাচনের যে আশা ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান) উপজেলার নুতন ভোটারদের ছিল – এসব হামলার খবরে কি ভোটাররা উদ্বিগ্ন ? কতটা নিরাপদ বোধ করছেন তারা এই পরিস্থিতিতে? জানতে কথা বলেছিলাম বেশ কয়েকজনের সাথে।

ভোলার একটি আসনের ভোটার আচমা আখতার। পেশায় চাকরিজীবী। আর কয়েকদিন পরেই নির্বাচন, তাই ভোটার হিসেবে নিজের ভোটটা দেয়ার উৎসাহ ছিল তার মধ্যে। কিন্তু নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকেই যেভাবে প্রার্থীদের ওপর হামলা হচ্ছে তার খবর দেখে তিনি বলছেন, তিনি আতঙ্কিত বোধ করছেন। এখন যে অবস্থা সেটাতে করে যেকোন সময় একটা নাশকতামূলক অবস্থা তৈরি হতে পারে। তাই ভোট দেয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি” – বলছেন এই নারী ভোটার।

আচমা আখতার বলছিলেন -ভোলার রাজনৈতিক অবস্থা খুব একটা ভাল না সেটা আমরা জানি এবং দেখতে পাচ্ছি। এই ক্ষেত্রে আমরা ভোট দিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের যে পুরুষ অভিভাবক রয়েছে তারা সবসময় চায় যেন আমরা একটা নিরাপদ জায়গায় থাকি।

বোরহানউদ্দিনের আরেকজন নারী ভোটারও বলছিলেন – পরিবার থেকেই তাদের এখন একটা সতর্কতার মধ্যে থাকতে বলা হচ্ছে। তিনি বলছিলেন “অন্তত আমরা নিরাপত্তার সাথে বাইরে, রাস্তায় বের হতে পারতাম। কিন্তু এখন আমাদের শোনার মত কেউ নেই। মেয়েরা যে রাস্তায় বের হলে বিপদে পড়তে পারে সেটা চিন্তা করার মত কেউ নেই। এক্ষেত্রে পরিবার থেকেই একটা বাধার মুখে পড়ছি”।
প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা এবং হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে প্রার্থী – সবাই এরকম হামলার শিকার হয়েছেন এবার।কথা হয় কয়েকজন ভোটারের সাথেও,

নাম প্রকাশ না করা একজন ভোটার বলছিলেন, নির্বাচনের দিন ভোট দিতে যেতে পারবেন কীনা সেটা নিয়ে তার মনে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভোট তো দেয়ার মত কোন পরিবেশ নেই। আর যদিও পরিবেশ থাকে – সেক্ষেত্রে সিল সামনে মারতে হবে। আর যদি তারা (রাজনৈতিক দলের নেতারা) মনে করে এই লোকটা আমায় ভোট দেবে না তাহলে সে টার্গেটে থাকে। তার গতিবিধি, চলাফেরা সব টার্গেট করা হয়। আমরা সাধারণ ভোটার যারা তারা তো আতঙ্কের মধ্যে আছি” – বলেন এই ভোটার। প্রচারণা শুরুর পর থেকে,
বোরহানউদ্দিনের বিএনপির প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহীমের প্রচার মিছিল বা গাড়িবহরে হামলার খবর সংবাদ মাধ্যমে এসেছে।

ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান)উপজেলা সহ নানা এলাকা থেকে কয়েক জন ভোটার বলছিলেন – যদি প্রার্থীদের ওপর হামলা হয় তাহলে সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা কোথায়?

মো: মিলন পাটওয়ারী,সলেমান হাওলাদার, বলছিলেন বর্তমান যে পরিবেশ আছে সেই পরিবেশ থাকলে তো আমরা সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারবো না। নাম-প্রকাশ-না-করা দৌলতখান উপজেলার একজন ভোটার বলেন এখনো পরিবেশ সৃষ্টি হয় নি ভোট দেয়ার মত। আমরা ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান) উপজেলার মানুষ একটা আতঙ্কের মধ্যে আছি। যারা রাজনৈতিক কর্মী, নেতা – তারাই মার খাচ্ছে, আর আমরা সাধারণ মানুষতো কেন্দ্রেই যেতে পারবো না-নির্বাচনের পূর্বে এই ধরণের হামলা এবং সহিংসতার ঘটনা ১৯৯১ সালে ১৯৯৬ সালে,২০০১ সালে ২০০৮ সালের নির্বাচন পর্যন্ত দেখা যায়নি বলে আমার বাংলার কাছে মন্তব্য করেছিলেন একজন সাবেক নির্বাচন কমিশনার।

তবে এবারের নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার ফলে যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হবার কথা – সেটা অনেকটাই উবে গেছে ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান) উপজেলার নুতন ভোটারদের মন থেকে।

তাদেরকে আস্থায় আনার জন্য বা এই সব হামলা সহিংসতা ঠেকাতে নির্বাচনের কমিশনের কিছু করার আছে কীনা? এই বিষয়ে জানতে আমার বাংলা থেকে একাধিক কমিশনারের সাথে যোগাযোগ করেছি, কিন্তু কোন মন্তব্য পাওয়া যায় নি। কয়েকদিন আগে নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী আমার বাংলাকে বলেন, সহিংসতার ঘটনার ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই কিছু ব্যবস্থা নিয়েছেন, এবং প্রক্রিয়া অনুযায়ী অভিযোগগুলো তদন্ত করেই কমিশন ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করে ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান) উপজেলার বীর জনতা।

Test

আরো দেখুন

মেজর (অব:) হাফিজউদ্দিন আহমদ বিরুদ্ধে দাঁড়াতে চান তার নীজ দলের সাবেক ছাত্র নেতা সহ আ.লীগের ৩ জন,

মেজর (অব:) হাফিজউদ্দিন আহমদ বিরুদ্ধে দাঁড়াতে চান তার নীজ দলের সাবেক ছাত্র নেতা সহ আ.লীগের …

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com