সর্বশেষ
Home / শীর্ষ দশ / latest / গনতন্ত্রের নেএী মানস কন্যা বলে যাকে আমরা জানি যে বিমান কে এতো ভালবাসে তার সু-দৃষ্টি কামনা করছি

গনতন্ত্রের নেএী মানস কন্যা বলে যাকে আমরা জানি যে বিমান কে এতো ভালবাসে তার সু-দৃষ্টি কামনা করছি

জনগনের জীবনযাত্রা নির্বাহে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হাদি অব্যাহত রাখার কারন অত্যাবশ্যক উল্লেখ করে সরকার ৬ মাসের জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের সকল শ্রেনীর চাকরী Essential Services (second) Ordinance,1958 এর ক্ষমতা বলে অত্যাবশ্যক ঘোষনা করেছে। পাকিস্তান আমলে আইয়ুব খান বাংঙ্গালীদের দমন নিপিড়নের জন্য এ ordinance টি তৈরী করেছিল। স্বাধীনতা পরবর্তী পাকিদের অনেক কিছুই ঝাড়ু মোছা করে বাতিল করলেও কিছু জিনিস বিশেষ যত্নে সিন্দুকের কোঠরে রেখে দেয়া হয়েছে। তার একটি হলো এই essential ordinance act 1958. জনস্বার্থের কথা বলা হলেও অতীতে লক্ষ্য ছিল বাঙ্গালী দমন আর এখন এ ordinance টি ব্যবহার হয় বাঙ্গালী গরীব মেহনতি শ্রমিক কর্মচারীদের কন্ঠ রোধ ,জেল জরিমানার ভয় দেখিয়ে বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনে। বাঙ্গালী নিম্ন আয়ের মানুষ জেলের খুব একটা ভয় পায়না, তারা ভয় পায় পরিবার পরিজনের। জেলে গেলে সন্তান সন্ততি বৃদ্ধ মা বাবাকে না খেয়ে মরতে হয়। তবে ইতিহাস যা বলে তাহলো তার জীবিকা ও দেশের স্বার্থে আঘাত লাগলে সে জেলের কথা ভুলে যায়। গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশ বিমানে দাবী আদায়ের নামে তেমন কোন আন্দোলন সংগ্রাম বা বিশৃঙ্খলা ঘটেনি। কোন কর্মবিরতি বা ধর্মঘটও হয়নি। স্বাধীনতা পরবর্তী ৪৬ বছরে বাংলাদেশ বিমানে মাত্র দুই বার কর্ম বিরতি হয়েছিল মাত্র ৫ ঘন্টার জন্য। তৎকালীন বিমান চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল (অব:) জামাল উদ্দীনের স্বেচ্ছাচারিতা ২০১০ সনে বিমান পাইলট এসোসিয়েশন (বাপা) এবং ২০১৩ সনের জানুয়ারীতে বিমান শ্রমিক লীগকে তাদের ন্যায্য দাবী দাওয়া আদায়ে কর্মবিরতি বাধ্য করেছিল। বর্তমানে সর্বকালের তুলনায় বিমানের অভ্যন্তরীন পরিবেশ, শৃঙ্খলা উত্তম। বিমান শ্রমিক লীগের সভাপতি বা সিবিএ’র সভাপতি হিসেবে বলছিনা, যে কোন কেউ সে কথা অকপটে স্বীকার করবে। অবশ্য বিমানের বাইরের অনেকেই আমার এ কথা বিশ্বাস করবেননা। যারা শ্রমিক সংগঠকের কাজ করেন এ দেশে সাধারনত তাদের কেউ বিশ্বাস করেনা। তাদেরকে সবাই অশিক্ষিত ,চোর ,ডাকাত ,টেন্ডার বাজ, নিয়োগ বানিজ্য কারী ইত্যাদি বলেই মনে করে থাকে। অবশ্য এজন্য আমরাও যে কম দায়ী তা নয়। ব্যাংক সিবিএ নেতা বাকি’র মতো কিছু নেতার কুকীর্তি ট্রেড ইউনিয়ন সম্পর্কে দেশব্যাপি নেতিবাচক ধারনা তৈরিতে দারুন ভূমিকা রেখেছে। সে যাই হোক বিমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, বিমান বোর্ড এমনকি মাননীয় বিমান মন্ত্রীও বিভিন্ন সময়ে বলেছেন যে, তার সময়ে ট্রেড ইউনিয়ন কোন অযৌক্তিক আন্দোলন বা বিশৃঙ্খলা করেনি। বরং যথাযথ সহোযোগিতা পাচ্ছেন। বর্তমানে বিমান বহরে নতুন জাহাজ সংযোজিত হয়েছে । সেবার মান বেড়েছ বহুগুনে । যদিও যাত্রী সংখ্য বৃদ্ধি , বিদেশী ঊড়োজাহাজের ক্রমবর্ধমান ফ্রিকোয়েন্সির কারনে আমরা কাঙ্খিত সেবার মানে এখনো পৌঁছতে পরিনি। তবে সরকারের নির্দেশনায় বিমান বোর্ড যে স্বল্প মেয়াদি , মধ্যম মেয়াদি ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহন করেছে তার ফল ইতোমধ্যেই সন্মানিত যাত্রীরা পেতে শুরু করেছেন। বর্তমানে শিডিউল ডিপার্চার প্রায় ৮০% যা বিশ্বের অনেক নামি দামী এয়ারলাইন্স এর কাছাকাছি । এরাইভাল ব্যাগেজ পেতে যাত্রীদের অতীতে ২ ঘন্টা সময় লাগত। এখন ৪০ থেকে ৬০ মিনিটের মধ্যেই সে তার ব্যাগেজ হাতে পাচ্ছে। এয়ারপোর্ট ম্যাজিস্ট্রেট নিশ্চয়ই মিথ্যা বলবেননা। শাহজালাল বিমান বন্দরে লাগেজ কাটা বা ছেড়ার তথ্য চিত্র এপিবিএন এবং তার কাছে আছে। এই এয়ারপোর্টে ব্যাগেজ চুরি বা কাটা নেই বলেই চলে। বিমানের সফল হজ্জ্ব পরিচালনার সিবিএ’র অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ সকল স্তরের শ্রমিক কর্মচারীদের সরকার হজ্জ্ব বোনাস প্রদান করেছে। বিমান পরাপর ধারবাহিক ভাবে গত দুই বছর ১৪-১৫ ও ১৫-১৬ অর্থ বছরে যথাক্রমে ৩২৪ কোটি ও ২৭৪ কোটি টাকা লাভ করেছে। এ মাসেরই শেষ নাগাদ ১০০ কোটি টাকার অতি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বহরে যুক্ত হচ্ছে। বিভিন্ন পদে প্রায় ৮০০ লোকের নিয়োগ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সর্বত্র পরিবর্তনের ছোয়া । যদিও মাননীয় প্রধান মন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটির কালিমা আমাদের লজ্জিত করেছে। শুধু বঙ্গবন্ধু কন্যার কাছে নয়, সারা জাতির কাছে আমরা লজ্জিত। বিমান এখন উন্নয়নের ক্রুইজিং হাইটে , পারস্পরিক সৌহর্দ্য সহযোগিতা সর্বত্র স্থিতিশীল শান্তি বিরাজমান । এই মাহেন্দ্র ক্ষনে কেন বিমান কে আইয়ুব খানের essential services ordinance 1958 এর শিকলে বাঁধতে হলো ? সামরিক জান্তা আইয়ুব এবং এরশাদ এ ordinance প্রয়োগ করেছিল । কিন্তু বঙ্গবন্ধুর কন্যা, জননেত্রী , গনতন্ত্রের মানস কন্যা বলে যাকে আমরা জানি যে বিমান কে এতো ভালবাসে তার সময়ে বিমানকে essential services ordinance 1958 এর যাঁতাকলে আটকে দিয়ে শ্রমিকের গনতান্ত্রিক অধিকার হরন করা হবে সে কি হয়? না এর পেছনে অন্য কোন সুগভীর রহস্যময় চক্রান্ত রয়েছ? না কোন উচ্চাবিলাসী আমলা, সুবিধাবাদী ব্যবসায়ী বঙ্গবন্ধুর কন্যার দৃস্টিকে আড়াল করে সুযোগের সন্ধানে আছে ? এরা কোন কাউউয়া নয়তো ? কেউ জানলে দয়া করে বলুন কি সেই অজানা কারন ? সাগরে ঝড় নেই ,তুফান নেই অথচ ১০ নম্বর সতর্ক সংকেত দিলে নৌকার মাঝি মাল্লা কি সে সংকেত মানবে ? বরং সে সংকেত ই একসময় মূল্যহীন হয়ে যায় ! আর সেই মাঝি যদি হয় আওয়ামী লীগের উত্তরাধিকার তাহলেতো কথাই নেই। যাদের চেতনায় বঙ্গবন্ধুর নীতি আদর্শ সেতো ঝড়কে ডরবেনা বরং সে ঝড়কে করবে মিতে ; অন্তত বিমানের ও দেশের স্বার্থোন্মত্ততায়!!

Test

আরো দেখুন

মেয়াদ শেষেই নির্বাচন, সাফ জানিয়ে দিলেন মন্ত্রী

বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষের ৯০ দিনের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আবার সাফ জানিয়ে …

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com